Skip to main content

Posts

Showing posts with the label রাজনীতি

ইলেকশন

ব্রহ্মাদেব, একুনে ৩০০০ বছর হতে চললো দেবালোকে রাজত্ব করিতেছেন , গতবার ইলেকশনে অপোনেন্ট পার্টি ছিল বিষ্ণু। সকল দেবতাই তাহাকে ভোট দিয়াছিল , খালি নারদ ব্যাটা ভোট না দিয়া চলিয়া গিয়াছিল, বলিয়াছিল তাহার নাকি পেটের ব্যাথ্যা , বাড়ি যাইয়া দই চিড়া খাইয়া শুইয়া থাকিবে । কিন্তু ব্যাটা বদের হাড়ি সোজা গিয়া শিবের পুত্র কার্তিকের সাথে গিয়া শলা করিতেছিল। এমনিতেই সে শিবের পুত্র তায় আবার সকল ব্রহ্মাস্ত্রের রক্ষনাবেক্ষনের ভার তার হাতে, ছেলেটি অল্পতেই চটিয়া যায়। ব্রহ্মাদেব ঘটনা শুনিয়া ভকরাইয়া গিয়াছিলেন , তবে ভাগ্যভাল যে সে সময় চলিতেছিল অমাবশ্যার তিথি তাই কার্তিক আর কিছু করিতে পারে নাই, না হইলে কি করিত কে জানে ।  নারদের এহেন কাজের জন্য ইলেকশনে জিতিয়াই ব্রহ্মাদের নারদকে ওএসডি করেন ২০০০ বছর। ওএসডি থাকিবার পরে যখন ব্যাট্যা টিকিতে না পারিয়া ব্রহ্মার নিকট ক্ষমা চাহিয়া ওএসডি তুলিয়া লইবার জন্য দেনদরবার করে তখন ৫ পেটিতে রফা হয়। , ব্যাটা হতচ্ছাড়া !!! ব্রহ্মার সাথে লাগিতে আসে , কত্ত বড় সাহস !! নির্বাচনের সময় কাছাইয়া আসাতে ব্রহ্মা কিঞ্চিত চিন্তিত , ইদানিং নাকি বিষ্ণু আর শিব মিলিয়া...

বাঙ্গালি মুসলমানের মন - আহমেদ ছফা

‘ উত্তর ভূমিকা’ তখন জিয়াউর রহমানের রাজত্বকাল। অধ্যাপক আবুল ফজল তাঁর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা। আবুল ফজল সাহেবের সঙ্গেআমার বিলক্ষণ পরিচয় ছিল এবং তিনি আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। আমার গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধেরউপর তিন তিনটে প্রবন্ধ লিখেছেন। লেখক জীবনে আবুল ফজল সাহেবের কাছে আমি অনেকপরিমাণে ঋণী। তিনি আমার মত অনেক তরুণেরই প্রেরণার উৎস ছিলেন। তিনি ছিলেনমুক্তবুদ্ধির পূজারী এবং ঘোষিতভাবে নাস্তিক। যেহেতু ফজল সাহেব নাস্তিকতা প্রচারকরতেন, প্রতিক্রিয়াশীলধর্মান্ধ লোকেরা তাঁকে ভীষণ খারাপ চোখে দেখত এবং প্রায়ই তাঁকে গালাগাল করা হত। একদিন সকালবেলা আমি প্রাতঃভ্রমণ করতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়েছি। খুবঅবাক হয়ে লক্ষ করলাম, সকালবেলা আবুল ফজল সাহেব মোটাতাজাউঁচা-লম্বা ফর্সামতন এক ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার বিপরীত দিক থেকে হেঁটে আসছেন। তাঁরমাথায় একটা গোল টুপি। আবুল ফজল সাহেবের মাথায় গোল টুপি দেখে আমি ভীষণ আশ্চর্য হয়েগেলাম। সালাম করে জিজ্ঞেস করলাম, স্যার, এত সকালে কোথায় যাচ্ছেন? তিনি জানালেন সিরাত মাহফিলে যোগ দেবেন বলে বেরিয়েছেন। তাঁর সঙ্গের মানুষটির পরিচয়ও আমি পরে জানতে পেরেছি। তিনিছিলেন জেনারেল জিয়াউ...

ধর্ম যেখানে সভ্যতাকে পেছনে ঠেলে দিয়েছে !!

আফগান যে উন্নত ছিল যে বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নাই । তবে ধর্মকে যে ভাবে দোষ দেয়া হচ্ছে তাতেই আমার আপত্তি। লোক জন দেখলাম এই ছবিটা শেয়ার করতেছে । আমাদের লেখক হুমায়ন আহমেদ যখন পিএইচডি করার জন্য আমেরিকাতে গিয়েছিলেন তখন তার ২ সহপাঠি ছিল আফগানের , যুদ্ধ শুরু হবার পর তার লেখাপড়া ছেড়ে দেশে চলে যান যুদ্ধে যোগ দিতে । তাদের আর কোন খোজ পান নি হুমায়ন আহমেদ। আসল কথায় আসি । ৭৮ এর দিকে রাশিয়ার প্রত্যক্ষ মদতে রাশিয়াতে বামদের উৎপাত বেড়ে যায় , এখন যেমন আমাদের দেশে বামেদের উৎপাত হচ্ছে। ৭৯ এর এসে পাকিস্তানের ও আমেরিকার মদদে শুরু হয় মুজাহিদিনদের উত্থান , পাকিস্তানের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এ কাজে সহায়তা দিতে এক প্রকার বাধ্য হয় , অন্যদিকে আমেরিকার সহায়তার কারন ছিল ভারত মহাসাগরে নিজের প্রাধান্য বজায় রাখা ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের হারের শোধ নেয়া । সে যুদ্ধ চলে ৯০ পর্যন্ত , এ সময়ে আফগান একটা সভ্য দেশ থেকে অসভ্য দেশে পরিনত হয় । আফগানের অর্থনীতি ছিল এবং আছে "কৃষি" ভিত্তিক । সে সময় আফগানে ভুমি উন্নয়নের জন্য বাধ দিয়ে সেচ ও কৃষি জমি বৃদ্ধি করা হয় । আফগানে আর যাই হোক আমাদের দেশের ...

বর্তমান হিন্দু মুসলমান সমস্যা

১৯২৬ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একটি ভাষন দেন যার নাম “বর্তমান হিন্দু মুসলমান সমস্যা” । এটি বাঙলা প্রাদেশিক সম্মেলনে প্রদান করেন। পরে তা হিন্দু সংঘ পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯ শে আশ্বিন ১৯৩৩ সালে। জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক  এর ভাষায় ১৯৩০ সালের দিকে প্রকাশিত শরৎচন্দ্রের বর্তমান হিন্দু মুসলমান সমস্যা পর এত ( আহামদ ছফার বাঙালি মুসলমানের মন ) প্রভোক্যাটিভ রচনা বাংলা ভাষায় পড়ি নাই। কোন একটা কথা বহু লোকে মিলিয়া বহু আস্ফালন করিয়া বলিতে থাকিলেই কেবল বলার জোরেই তাহা সত্য হইয়া উঠে না । অথচ এই সম্মিলিত প্রবল কন্ঠস্বরের একটা শক্তি আছে । এবং মোহও কম নাই । চারিদিক গমগম করিতে থাকে – এবং এই বাস্পাচ্ছন্ন আকাশের নীচে দুই কানের মধ্যে নিরন্তর যাহা প্রবেশ করে , মানুষ অভিভূতের মতো তাহাকেই সত্য বলিয়া বিশ্বাস করিয়া বসে । propaganda বস্তুত এই-ই । বিগত মহাযুদ্ধের দিনে পরস্পরের গলা কাটিয়া বেড়ানই যে মানুষের একমাত্র ধর্ম ও কর্তব্য , এই অসত্যকে সত্য বলিয়া যে দুই পক্ষের লোকেই মানিয়া লইয়াছিল , সে ত কেবল অনেক কলম এবং অনেক গলার সমবেত চীৎকারের ফলেই । যে দুই- একজন প্রতিবাদ করিতে গিয়াছিল ,...

সিরাজুল আলম খান - ব্ল্যাক সোয়ান

মুক্তিযুদ্ধ চলা কালে ট্রেনিং সেন্টারে (ফোল্ডার হাতে) পরিচিতি :  সিরাজুল আলম খান, নোয়াখালীতে ১৯৪১ সালে জন্ম নেয়া এক জন ব্যাক্তি যে বাংলাদেশের জন্মের সাথে জড়িত অত্যান্ত নিবিড় ভাবে। অবিবাহিত একজন মানুষ যাকে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে সম্মক অবহিতজনের কাছে পরিচিত রহস্যপুরুষ হিসাবে, এছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের কাছে তিনি পরিচিত তাত্ত্বিক (theorist) হিসাবে। সিরাজুল আলম খান ভিন্ন ভিন্ন তিন মেয়াদে প্রায় ৭ বছর কারাভোগ করেন। সিরাজুল আলম খান মেধাবী ছাত্র হিসাবে শিক্ষায়তনে সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সিরাজুল আলম খানের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী অঙ্ক শাস্ত্রে হলেও দীর্ঘ জেল জীবনে তিনি দর্শন, সাহিত্য, শিল্পকলা, রাজনীতি-বিজ্ঞান, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সমাজ বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান, সামরিক বিজ্ঞান, মহাকাশ বিজ্ঞান, সংগীত, খেলাধুলা সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যাপক পড়াশোনা করেন। ফলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের উপর গড়ে উঠে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং দক্ষতা। সেই কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক নিযুক্ত হন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন রাজ্যের অসকস বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৬-’৯৭ সনে। ...